Blog

Keep up to date with the latest news
BCS preparation

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

Share it

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি যে ভাবে নিবেন

 

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

যেহেতু এটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ তাই মনে হতেই পারে এটা সবচেয়ে সহজ ধাপ। ছোটবেলায় আমিও সেটাই ভাবতাম। ছোটবেলা মানে বছরখানেক আগে। পরে বুঝতে পারলাম প্রিলিমিনারির ধাপই হচ্ছে বিসিএস এর সবচেয়ে কঠিন ধাপ। কারণ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৯৫% বাদ পড়ে যায় এই প্রিলিতেই! মনে করুন, আড়াই লাখ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিবে, ১০ হাজার পাস করবে অর্থাৎ বাদ পড়ে যাবে ২ লাখ ৪০ হাজার। আর রিটেনে ৫০% নম্বর পেলেই পাস–পাস করার জন্য কারো সাথে কারো কম্পিটিশন হয় না তবে রিটেনে বেশি নম্বর পেলে পছন্দের ক্যাডার পাবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আর সর্বশেষ ধাপ ভাইভাতে ২০০ তে ১০০ নম্বর পেলে পাস। ভাইভাতে সাধারণত নম্বরের পার্থক্য তেমন হয় না তাই যা করার রিটেনেই করতে হবে কারণ আপনার আছে মিনিমাম ৯০০ নম্বরে নিজেকে প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সবার আগে প্রিলিমিনারি নামের প্রথম ধাপটা অতিক্রম করতে হবে। দিনে দিনে প্রিলিমিনারি কঠিন, আনপ্রেডিক্টেবল হয়ে যাচ্ছে। তাই চলুন আমরা পড়াশুনায় মনোযোগ দেই যাতে পিএসসি যেই নিয়মই করুক না কেন আমরা সব সময় পার পেয়ে যাই।
অনেকে ভাবেন বেশি বেশি পড়লেই প্রিলি পাস করা যাবে যেটা ১০০% ভুল ধারণা। আপনি ২০০ পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে গেলে ফেল করে আসতে পারেন কিন্তু যদি ১২০ এর টার্গেটে যান তাহলে পাস করে ফেলতে পারেন। Proper strategy প্রিলিমিনারি পাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন আপনি এক বছরের কারেন্ট এফেয়ার্সের a to z পড়ে গেলেন। কিন্তু এখান থেকে কয়টা প্রশ্ন আসতে পারে সেটা কি ভেবে দেখেছেন? বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসে সাম্প্রতিক অংশে (বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাপ্রবাহ) মাত্র ৪ নম্বর থাকে। আবার বাংলাদেশ অংশের প্রশ্নগুলো “সাম্প্রতিক” মনে হতে পারে যদি লেটেস্ট ইনফরফেশন টাইপের প্রশ্ন আসে তাই তালগোল পাকনো যাবে না। ভেবেচিন্তে পড়তে হবে। সবার আগে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসটা প্রিন্ট করে দেখুন কোন বিষয়ে কত নম্বর আছে। প্রিন্ট করুন। পিসিতে/মোবাইলে থাকলে ছোট ছোট বিষয় চোখের আড়াল হয়ে যেতে পারে। শুধু সিলেবাস ভালভাবে বোঝার কারণেই অনেকে বেশি নম্বর পাবে। তাই টার্গেট হবে যেটাতে আউটপুট বেশি পাওয়া যাবে সেই দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক) নিয়ে শত শত, হাজার হাজার ঘণ্টা পার করে দেবার কোন মানেই হয় না। এই effort ইংলিশ লিটারেচার বা ম্যাথে প্রয়োগ করুন, অনেক বেশি আউটপুট পাবেন। বেশি আউটপুট পাওয়া যেতে পারে এমন কয়েকটি সাবজেক্ট হচ্ছে গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি সাহিত্য এবং কম্পিউটার। আবারও বলছি সিলেবাসটা প্রিন্ট করুন।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি

BCS preparation

ম্যাথ ৩০

আমরা যেটাকে ম্যাথ বা গণিত বলি বিসিএস এর সিলেবাসে সেটাকে বলা হয় গাণিতিক যুক্তি, নম্বর ১৫। এর সাথে আছে মানসিক দক্ষতা, নম্বর ১৫। সোজা কথায় ম্যাথে ৩০ নম্বর। এই ৩০ নম্বরই হতে পারে আপনার জন্য ট্রাপ কার্ড। ২৫+ পেলে আপনি হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন। অনেক পরীক্ষার্থী আছেন যারা সব বিষয়ে পটু কিন্তু ম্যাথে খুবই নাজুক। আমাদের টার্গেট হবে তাদেরকে কুপোকাত করা। আপনি যদি আন্তর্জাতিকে ২০ এ ২০ বা কাছাকাছি পেতে চান তাহলে অনেক অনেক পড়তে হবে এবং প্রশ্ন কমন না পড়ার আশংকা তো আছেই। তাই we have to work smart, not hard.
ম্যাথের জন্য রেগুলার প্র্যাকটিস করতে হবে। বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য ম্যাথ তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে easy লাগবে তাই বলে “পারি, পারি” করে হেলাফেলা করলে শেষে ধরা খাবেন, পঁচা শামুকে পা কাটবে। রেগুলার প্র্যাকটিস করতে হবে পরীক্ষার হলে quick করার জন্য। পরীক্ষার হলে গবেষণা করার টাইম পাবেন না। প্রিলিতে টাইম নিয়ে ম্যাথ পারার চেয়ে আপনি কত দ্রুত ম্যাথ করতে পারেন সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গাণিতিক যুক্তির জন্য প্রফেসর’স এর বিসিএস প্রিলিমিনারি গাইড পড়তে পারেন আর মানসিক দক্ষতার জন্য ওরাকলের রিটেন মানসিক দক্ষতার গাইড কিনবেন। ২৭তম বিসিএস থেকে ৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার এর মানসিক দক্ষতার প্রশ্নগুলো সলভ করবেন। বাকিগুলো করার কোন প্রয়োজন নেই। এর সাথে ৩৫তম থেকে ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানসিক দক্ষতার অংশটা দেখুন। রিটেন পরীক্ষাতেও এই মানসিক দক্ষতার পড়াগুলো বেশ কাজে দিবে। অতিরিক্ত আর কিছুই পড়তে হবে না তখনও।

ইংলিশ লিটারেচার ১৫

ম্যাথের পর ইংলিশ লিটারেচার দেখে অনেকে অবাক হতে পারেন। আসলে অবাক হবারই কথা। আমার মতে বিসিএস প্রিলিমিনারির সবচেয়ে underestimated সাবজেক্ট হচ্ছে ইংলিশ লিটারেচার। যেখানে আছে ১৫ নম্বর। ইংলিশ লিটারেচার রিটেনে নেই তাই হয়ত চাইবেন এটা সম্পূর্ণ বাদ দিতে। এটা খুবই রিস্কি হয়ে যায় কারণ গতানুগতিক প্রশ্ন হলে ১০-১২ নম্বর পাওয়া কোন ব্যাপারই না। প্রশ্ন কেমন হবে সেটা শুধু পিএসসি জানে। আর গতানুগতিক প্রশ্ন না হলেও সমস্যা নেই। আপনি অন্যদের চেয়ে তবুও বেশি পাবার যোগ্য। এখানে ভাল করার জন্য সাধারণ জ্ঞানের মত বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। আপনি এখানে একটু জোর দিলেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।
ইংলিশ লিটারেচারের জন্য এমন বই পড়বেন যেটাতে বিগত বছরের বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন আছে। আসলে এই কথা সব বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে আপনাকে আইডিয়া নিতে হবে কী পড়তে হবে আর কী পড়তে হবে না–যারা পাস করেন আর যারা ফেল করেন তাদের অন্যতম পার্থক্য এটা। লিটারেচারে প্রাচীন যুগের তুলনায় মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগ থেকেই বেশি প্রশ্ন আসে। Romantic, Renaissance, Jacobian age, Anglo-Saxon ইত্যাদি নামগুলো শুনে কেমন কেমন জানি লাগে। আমারও লাগত, ভয়ের কিছু নাই। কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে। শুধু লেগে থাকতে হবে।
পড়ার জন্য ABC of English literature নিয়ে আমার কোন ধারণা নেই তবে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়া থাকলে কিনতে পারেন। যেহেতু এটা পড়ার কথা কেউ কেউ সাজেস্ট করেছেন। ইংলিশ লিটারেচারের জন্য Miracle BCS English Literature (Mohammad Shakawoat Hossen) বইটা আমার বেশ ভাল লেগেছে। বিভিন্ন লেখকের নাম ধরে ধরে পড়ুন। সব লেখকের পড়তে হবে না। বিখ্যাত লেখকদের পড়বেন। মনে রাখবেন পড়তে পড়তে হারিয়ে যাওয়া যাবে না। ইংলিশ লিটারেচারে সাধারণত বাংলার মত গভীর প্রশ্ন আসে না (৪০তম বিসিএস ব্যতিক্রম) তাই লেখকদের বর্ণনা দুই একবার পড়েই বই এর প্রশ্নগুলো পড়া শুরু করবেন। তবে শেকসপিয়র আর বার্নার্ড শ নিয়ে বারবার পড়বেন। তাদের রচনাগুলোর বিষয়বস্তু, চরিত্র বারবার পড়বেন। মূল কথা Don’t underestimate the power of English literature.

ইংরেজি গ্রামার ২০

Barron’s TOEFL, Cliff’s TOEFL, GRE এরকম ডজন ডজন বই পড়ে স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন ভর্তি করার কোন মানেই হয় না। বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য English for Competitive Exams (Md. Fazlul Haque) বইটিই যথেষ্ট। এমনকি আপনি যদি বইটির ৫০% পড়ে ফেলতে পারেন সেটাও অনেক। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো না পড়লেও চলবে, শুধু বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নগুলো পড়েন তাতেই হবে। ভাবছেন এত কম পড়লে হবে কি? হবে। সবাই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবেন না, পাস করার পর নিজেকে অনেক পড়ুয়া, মেধাবী প্রমাণের জন্য কেউ কেউ নীলক্ষতের সব বইয়ের নাম ধরিয়ে দেন। এক সময় আমার কথার তাৎপর্য বুঝতে পারবেন, তখন ধন্যবাদ দিবেন। কারও বেসিক দুর্বল হলে Common Mistakes in English (T. J. Fitikides) বইটা পড়ুন। ছোটখাট স্লিম সাইজের বই, কাজে দিবে। আর গ্রামার পড়ার খুব ইচ্ছা হলে পিসি দাসের Applied English Grammar and Composition বইটা পড়তে পারেন। কেনার সময় লম্বা সাইজেরটা কিনবেন। তবে মনে রাখবেন বেসিক ইংরেজি জ্ঞান এবং বিগত সালের প্রশ্নগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিসিএস প্রিলিমিনারি ইংরেজি অংশের প্রস্তুতির জন্য।

বিজ্ঞান ১৫

যারা বিজ্ঞানের ছাত্র তাদের জন্য বিজ্ঞান একটা প্লাস পয়েন্ট। প্রশ্ন কঠিন হলেও বিজ্ঞানের ছাত্ররা কিছু সুবিধা পাবে তবে অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্রদের কোন ভয় নাই। সবার আগে নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইটা রিডিং পড়ে ফেলুন সিলেবাসের টপিক অনুযায়ী এক বা দুই বার। অনেক ভুলে যাওয়া জিনিস মনে আসবে আর রিটেনে এটা খুবই কাজে দিবে; আবারও বলছি খুবই কাজে দিবে। তারপর বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য ওরাকল বা প্রফেসর’সের গাইড থেকে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সলভ করুন, যুক্তি বোঝার ট্রাই করুন, না বুঝলে ইংরেজিতে বা বাংলায় গুগলে সার্চ করুন। কিছু লিস্ট টাইপের প্রশ্ন যেমন সমুদ্রের গভীরতা মাপার যন্ত্রের নাম কী? এগুলো অনেকবার আসে। আপনি এই টাইপের বিভিন্ন নাম শিখে ফেলুন। ব্যাকটেরিয়া বাহিত রোগ নাকি ভাইরাস বাহিত রোগ এরকম প্রশ্নও আসে। আশা করি ধরতে পেরেছেন। না ধরতে পারলে, আমি তো আছিই।

কম্পিউটার ১৫

এটাও খুব গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা এখানে এগিয়ে থাকবে। কম্পিউটারভীতি অনেকের আছে তাই আপনার এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। এর জন্য ইজি কম্পিউটার বা প্রফেসর’সের বিজ্ঞান বই এর কম্পিউটার অংশ দেখতে পারেন। ওরাকলের বিজ্ঞানের সাথে কম্পিউটার নাই তাই আলাদা কিনতে পারেন; ওরাকলও ভাল হবার কথা। আর একটা কাজ করতে হবে সেটা হচ্ছে নিয়মিত পেপারের তথ্য প্রযুক্তি অংশ পড়া। এটা পড়লে আপনি সাম্প্রতিক অনেক তথ্য জেনে যাবেন যেটা খুব কাজে দিতে পারে। প্রথম আলোর “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” অংশ দেখতে পারেন। আমি তো ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারির একটা প্রশ্ন যেটার উত্তর “Google Street View” সেটা এক ফেসবুক ফ্রেন্ডের স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমার ফ্রেন্ড লিস্টে টেকি ফ্রেন্ড ভরপুর।

বাংলা ২০

বাংলা নিয়ে অনেকে অহেতুক ভয় পায়। চর্যাপদ, চণ্ডীদাস এসব নাম শুনেই হৃদকম্পন বেড়ে যায়। আসলে প্রাচীন আর মধ্যযুগ অংশে মাত্র ৫ নম্বর আর আধুনিক অংশ যেখানে কবি লেখকদের নামগুলো পরিচিত পরিচিত লাগে মানে মানুষের নামের মত মনে হয় সেখনেই আছে ১৫ নম্বর। প্রাচীন আর মধ্যযুগে নতুন কোন কিছু সৃষ্টি হবে না তাই সেখানে ঘুরে ফিরে কিছু প্রশ্নই আসে। যদি কমন না আসে ৩৭ এর মত অবাস্তব টাইপের প্রশ্ন আসে তাহলেও কোন সমস্যা নাই কারণ কেউ পারবে না এবং আপনিও পারবেন না, তাই ভয়ের কিছু নাই। আধুনিক অংশে বেশি মনোযোগ দিন। পিএসসি কর্তৃক দেওয়া ১১ জন লেখকের উপর খুব গুরুত্ব দিন, গভীরভাবে তাদের নিয়ে পড়ুন। তাদের ছাড়া বিসিএস প্রশ্ন হয়নি, হয়না এবং হবেও না এরকম আশা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর আপনি তো বুদ্ধিমান আমি জানি।

বাংলাদেশ ২০

সাধারণ জ্ঞানের দুইটি অংশ—বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক। প্রথমেই বলি সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হবার চেষ্টা করা নিষ্প্রয়োজন। গাদা গাদা কারেন্ট এফেয়ার্স গোগ্রাসে গেলার কোন মানেই হয় না। বড়জোর পরীক্ষার আগের তিন থেকে চার মাসের কারেন্ট এফেয়ার্সের প্রথম দিকে থাকা ৫০টার মত MCQ টাইপ প্রশগুলো পড়ে যাবেন। তবে সবার আগে সিলেবাসে বাংলাদেশ অংশ দেখুন। হাজার বছর আগের সময়কাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ে মাত্র ৬ নম্বর বরাদ্দ আছে! দেখেছেন? এগুলো বেশি বেশি পড়ে কি সময় নষ্ট করেছেন? বাকি অংশ যেমন জনসংখ্যা, অর্থনীতি, সংবিধান এসব অংশে পড়া কম কিন্তু নম্বর তুলনামূলকভাবে বেশি তাই এখানেই জোর দিতে হবে। প্রফেসর’সের গাইডটা ভাল, সুন্দরভাবে সিলেবাস অনুযায়ী গোছানো। কেউ কেউ স্লিম সাইজের এম পি থ্রি পড়তে চায় তবে আমি এম পি থ্রি তেমন পছন্দ করি না। সম্প্রতি এদের গাইডে যদি আমূল পরিবর্তন না করে থাকে তাহলে প্রফেসর’স বেটার অপশন। তবে এম পি থ্রি পড়লে যে আপনি ফেল করবেন এমন কোন কথা বা যুক্তি নেই। মূল কথা পড়তে হবে উৎস যাই হোক না কেন; সর্বনিম্ন একটা পরিমাণ আপনাকে পড়তেই হবে।

আন্তর্জাতিক ১৫

এটাতেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হওয়া নিষ্প্রয়োজন। টিভির ব্রেকিং নিউজ দেখুন, পত্রিকায় কিছুটা চোখ রাখুন এবং সর্বপ্রথমে বিগত সালের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নগুলো খুব ভালোভাবে পড়ুন। মনে রাখবেন সাধারণ জ্ঞান কখনই আপনাকে প্রিলি পাসের জন্য বড় কোন সাহায্য করতে পারবে না তাই এখানে মাত্রাতিরিক্ত সময় দেওয়া নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারারই নামান্তর। তাই সীমিত আকারে আন্তর্জাতিক পড়ুন বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য।

ভূগোল ১০

প্রফেসর’স বা ওরাকল যেকোন গাইড থেকে পড়ুন। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করার প্রয়োজন নেই। নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বইটা একবার পড়তে পারেন তবে এটা নিয়ে বেশি টাইম নষ্ট করা যাবে না।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ১০
হঠাৎ দুইটা জমজ বাচ্চাকে দেখলে তাদের আলাদা করে চেনা যেমন জটিল ঠিক তেমনি পরীক্ষার হলে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রশ্নগুলো জটিল মনে হয় কারণ প্রায় সব অপশন একই মনে হয়। সোজা কথা, ৩৫তম বিসিএস থেকে ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রশ্নগুলোর নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অংশ সলভ করুন আর কিছু না পড়লেও হবে। আমরা ২০০ নয় বরং ১৯০ তে পরীক্ষা দেবার জন্য যাব এবং সফল হব ইনশাল্লাহ।
এবার আসি আসল কথায়।
কতটুক নিশ্চিত হলে উত্তর করবেন
আন্দাজে ঢিল মারা আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সাথে মাস্ক ছাড়া আড্ডা দেওয়া একই কথা। আপনি যা জানেন না তা ভুল হবে সেটাই স্বাভাবিক। “যদি লাইগা যায়” এই থিওরি থেকে বের হয়ে আসুন। প্রিলি লটারি না; মেধা, স্ট্র্যাটেজি আর ভাগ্যের সমন্বয়। তাই ৫০% বা এর চেয়ে বেশি নিশ্চিত থাকলে দাগান, প্রশ্ন যতই কঠিন হোক আর সহজ হোক দিনশেষে আপনি লাভবানই হবেন ইনশাল্লাহ। এটাই আমার অভিজ্ঞতা মতে বেস্ট স্ট্র্যাটেজি। আমি আগে ১০০% নিশ্চিত না হলে দাগাতাম না এবং নম্বর কম আসত তাই স্ট্রাটেজি চেঞ্জ করলাম নম্বর অনেক বেড়ে গেল। ১০০% নিশ্চিত হতে গেলে আপনি নিজেই নিজেকে মানসিক চাপে ফেলে দিবেন। অত্যধিক চাপের কারণে নম্বর অনেক কমে আসতে পারে। তাই বুলেটপ্রুফ স্ট্র্যাটেজি সেট করতে হবে। বারবার পরীক্ষা দিয়ে নিজের স্ট্র্যাটেজি “অব্যর্থ” করতে হবে।

পরীক্ষার দিনঃ অগ্নিপরীক্ষা

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার দিন প্রশ্ন হাতে পেয়ে এন্সার করার সময়েই বুঝে ফেলতে হবে প্রশ্ন কঠিন, না সহজ বা কেমন। এটা বোঝার ক্ষমতা যাদের সৃষ্টি হবে তারা অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন। যারা বুঝবেন না, তারা বেশি নম্বর পাবার জন্য মানসিক চাপে ফেটে যাবে এবং নেগেটিভ মার্কিং এর ফাঁদে পড়ে যেতে পারে। যারা বুঝতে পারবেন, তারা সাইকেল চালানোর মত ব্যালেন্স রাখতে পারবেন, রেজাল্টের দিন বিজয়ের হাসি দিতে পারবেন।
আর কথা বাড়াচ্ছি না, মাত্র একটি আর্টিকেল লিখে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব কিছু বোঝান প্রায় অসম্ভব। ছোটখাট বিষয়গুলো বাদ থেকেই যায়। সবার জন্য অজস্র শুভ কামনা।
আজ, কাল অথবা তারপর কোন একদিন। মাটি কামড়ে পড়ে থাকুন, কারও কটু কথায় কান দিবেন না। যদি কোন দিন দিগন্তের ওপারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে……………………
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *